কূটনৈতিক উত্তেজনা

চীনে ব্যবসা নিয়ে জাপানি রেস্তোরাঁ মালিকদের উদ্বেগ

চীনে জাপানি সামুদ্রিক খাবারের আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার অপেক্ষায় ছিলেন সাংহাইয়ের রেস্তোরাঁ মালিক তাকাশি ইতো।

চীনে জাপানি সামুদ্রিক খাবারের আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার অপেক্ষায় ছিলেন সাংহাইয়ের রেস্তোরাঁ মালিক তাকাশি ইতো। কিন্তু গত সপ্তাহে বেইজিং ও টোকিওর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় সেই প্রত্যাশা ভেস্তে গেল। শুধু তাকাশি ইতোই নয়, আরো অনেক জাপানি ব্যবসায়ীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে চলমান পরিস্থিতি। খবর রয়টার্স।

জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়া তাকাইচির সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জেরে এ কূটনৈতিক উত্তেজনার সূচনা। তার মতে, তাইওয়ানে চীনা আক্রমণ জাপানের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এতে সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে টোকিও।

স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে চীন। ওই মন্তব্যের পরই জাপানি সামুদ্রিক খাবারের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বেইজিং। এছাড়া জাপানগামী পর্যটনের ঢল থেমে যায়। দুই দেশে বাতিল হয়েছে একাধিক বৈঠক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মেরোসে নামে রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন তাকাশি ইতো। তিনি জানান, সম্প্রতি রেস্তোরাঁর কিছু বুকিং বাতিল হয়েছে। সম্ভাব্য গ্রাহকরা কোনো কারণ জানালেও বিষয়টি উদ্বেগজনক। কারণ সাধারণত মেরোসের অর্ধেক গ্রাহকই চীনা।

বেইজিং সম্প্রতি আংশিকভাবে জাপানি সামুদ্রিক খাবারের ওপর সীমাবদ্ধতা শিথিল করেছিল। দুই বছর আগে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পরিশোধিত বর্জ্য পানি নিঃসরণ শুরু করে। এ কারণে জাপানি সামুদ্রিক খাবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় অনেক দেশ। ২০১১ সালের বৃহৎ ভূমিকম্প ও সুনামির পর এ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল।

এখন তাকাশি ইটো স্থানীয়ভাবে যতটা সম্ভব মাছ সংগ্রহ করতে চেষ্টা করছেন। তবে তার মেন্যুতে স্থান পাওয়া কিছু প্রজাতির মাছ শুধু জাপানে পাওয়া যায়।

তাকাশি ইতোর মতে, সামুদ্রিক খাবারের আমদানির বিষয়ে শিগগিরই কোনো ভালো খবর আসার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, ‘সানায়া তাকাইচি যা বলেছে, আমি মনে করি তিনি তা পরিবর্তন করবেন না। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জাপান ও চীনের কূটনীতিকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আশা করি শিগগিরই কোনো দ্বন্দ্ব ছাড়াই চীন ও জাপানের মানুষ একই খাবারের স্বাদ নিতে পারবে।’

এদিকে জাপান চীনে তাদের নাগরিকদের সতর্কতা বাড়াতে এবং জনসমাগম এড়াতে সতর্কবার্তা দিয়েছে। তবে তাকাশি ইতো ও সাংহাইভিত্তিক অন্য রেস্তোরাঁ মালিক কাজুয়াকি সোনে উভয়ই নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত নন বলে জানিয়েছেন। শুধু ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে আশঙ্কা তাদের।

কাজুয়াকি সোনে বলেন, ‘আমি চীনে দীর্ঘদিন বসবাস করেছি এবং জাপান-চীন কূটনৈতিক উত্তেজনা একাধিকবার অনুভব করেছি। কিন্তু সাধারণভাবে এখনকার মানুষ বন্ধুসুলভ। তারা আমাকে আলাদাভাবে দেখে না। এজন্যই আমি এখনো চীনে কাজ করতে পারছি।’

আরও